ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে এক খামারি তার বিশাল আকৃতির গরুর নাম রেখেছেন ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’। নামটি ঘিরে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি গরুটির আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা ও হাস্যরস।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। দেখা যায়, কালো রঙের বড় আকারের এই ষাঁড়টি হাটে উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গরুর মালিক জানান, গরুটি স্বভাবগতভাবে খুব বেশি চিৎকার করে এবং অতিরিক্ত খাবার খায়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই তিনি মজার ছলে গরুটির নাম রেখেছেন ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে গরুর মালিককে হাটে দাঁড়িয়ে নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “এটার নাম রাখছি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। অনেক চিল্লায় দেখে এই নাম রাখছি। খাওয়ার সময়ও অনেক বেশি চিল্লায়, খাওয়া কম পড়লেই আরও বেশি শব্দ করে।”
তিনি আরও জানান, বিশালদেহী এই কালো ষাঁড়টি একবারে বিপুল পরিমাণ খাবার খেতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গরুটি একবারে প্রায় ১২ কেজি চালের জাউ খেয়ে ফেলে। এছাড়া প্রতিদিন নিয়মিত ঘাস ও খড় খাওয়াতে হয়। গরুটির দৈনন্দিন খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে বাড়তি যত্ন নিতে হয় বলে জানান তিনি।
হাটে উপস্থিত ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা গরুটিকে ঘিরে ভিড় করছেন এবং ছবি তুলছেন। অনেকে গরুটির নাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি হাস্যরস হিসেবে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গরুটির নাম নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা গেছে। কেউ কেউ মজার ছলে মন্তব্য করছেন, আবার কেউ গরুর এমন নামকরণকে ব্যতিক্রমী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
গরুর মালিক জানান, আপাতত গরুটির দাম ধরা হয়েছে ৯ লাখ টাকা। তিনি বলেন, এই দামে ক্রেতা পাওয়া গেলে গরুটি বিক্রি করে দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো বিক্রয় সম্পন্ন হয়নি। হাটে আসা ক্রেতারা গরুটির আকার, ওজন এবং আচরণ দেখে আগ্রহ দেখালেও দাম নিয়ে আলোচনা চলছে।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন হাটে বড় ও আকর্ষণীয় পশুর চাহিদা বাড়ছে। সেই ধারায় এই গরুটিও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। হাটে আসা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ক্রেতারা গরুটির নাম ও স্বভাব নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কনটেন্ট এখন হাটের বাণিজ্যে বড় ভূমিকা রাখছে। ব্যতিক্রমী নাম, বড় আকৃতির পশু এবং মজার ঘটনা ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে পশুর প্রচারণাও সহজ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ঈদের আগে পশুর হাটে এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।