হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় কোনো সামরিক জাহাজ হস্তক্ষেপ করলে বা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে ইরান। শনিবার (৩০ মে) দেশটির সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বিদেশি শক্তির যেকোনো ধরণের অনধিকার চর্চাকে ইরান কঠোর হস্তে দমন করবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত পূর্ণ কর্তৃত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করছে। সেখানে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ, সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ ও আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকারকে অবশ্যই নির্ধারিত সামুদ্রিক রুট ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে এই পথ অতিক্রম করার সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি (IRGC) নৌবাহিনীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনুমোদন নিতে হবে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নির্ধারিত এই নিয়মাবলী এবং আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিমা ও অন্যান্য বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালীর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ না করার জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে কিংবা সাধারণ নৌ চলাচল ব্যাহত করলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তা লক্ষ্যবস্তু করবে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের এই দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চলমান আলোচনা ও সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিই প্রমাণ করে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রই তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বজায় রেখেছে।
উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমগ্র বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) পরিবহনের একটি বিশাল ও সিংহভাগ অংশ প্রতিদিন এই কৌশলগত আন্তর্জাতিক পথ ব্যবহার করেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের সামান্য উত্তেজনাও পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের প্রভাব সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে।