নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনা শহরের উত্তর কাটলী এলাকায় ঘরের ভেতরে ঢুকে মনোয়ারা বেগম চায়না (৫৫) নামের এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় নিহতের স্বামী আবু চানঁ ও তাদের ছোট ছেলে মুন্না গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আব্দুর রশিদ নামের স্থানীয় এক রিকশাচালককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) রাতে জেলা শহরের উত্তর কাটলী এলাকার একটি বাসায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে এক বা একাধিক হামলাকারী আকস্মিকভাবে ওই বাসায় প্রবেশ করে গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে এবং পরিবারকে রক্ষা করতে গৃহবধূর স্বামী আবু চানঁ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বড় ছেলে আনোয়ারকে মোবাইল ফোনে কল করে বাসায় দুর্বৃত্তদের হামলার বিষয়টি জানান। বাবার ফোন পেয়ে আনোয়ার, অন্যান্য আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের ভেতর থেকে আবু চানঁ ও তাঁর ছেলে মুন্নাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসার সময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয়রা আব্দুর রশিদ নামের ওই রিকশাচালককে হাতেনাতে আটক করেন এবং পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর ঘরের ভেতর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম চায়নার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর ও নৃশংস আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই বিষয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল সরকার জানান, তাৎক্ষণিকভাবে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিটিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।