পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সদ্য পদত্যাগ করা বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা দীপেন দেওয়ান অবশেষে মুখ খুলেছেন। পদত্যাগের দীর্ঘ তিন দিন পর এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘদিনের জাতিগত সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও পাহাড়ে সম্প্রীতি সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার জন্য সবার প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।
পার্বত্যমন্ত্রী থেকে পদত্যাগের তিন দিন পর বুধবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দীপেন দেওয়ান পার্বত্যবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত সোমবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা-কর্মীরা তাঁর মন্ত্রিত্ব পুনর্বহাল রাখার দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ-সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়াও পাহাড়ের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী মহলের মাঝে এই পদত্যাগের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর হতাশা দেখা দেয়।
বিবৃতিতে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে তাঁর এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি গভীরভাবে অবগত আছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার সার্বিক দায়িত্ব এই অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের। তিনি পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করারও গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নিজের রাজনৈতিক আদর্শের কথা স্মরণ করে দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, “আমার বাবা সুবিমল দেওয়ান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষাই মূলত আমার রাজনৈতিক জীবনের মূল প্রেরণা।” তিনি জানান যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও সরাসরি নেতৃত্বে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং দলই তাঁর শেষ ঠিকানা।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিএনপি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের একমাত্র ঠিকানা। জীবনের অবশিষ্ট সময়ে তিনি এই দলের আদর্শ ও দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করতে চান। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেই তিনি দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখবেন এবং এই দল তিনি কখনো ত্যাগ করবেন না।
তিনি পাহাড়ের জনগণকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের মধ্যে মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই সংঘাত নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, উন্নয়নের সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারে এবং এই অঞ্চল যেন দেশের বুকে সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটিই তাঁর একমাত্র কামনা। পরিশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি নিজের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।