ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করলে পরীক্ষকের ২ বছরের জেল সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৩২ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই দিন ধার্য করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হওয়ার পর আসামি স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বড় বালতির ভেতরে দেখতে পান তারা।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মামলার অপর আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঘটনায় গত ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

গত সোমবার (১ জুন) আদালত আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন মাত্র একদিনের মধ্যেই চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। গতকাল বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীসহ সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরেছে। এখন রায়ের অপেক্ষায় পুরো দেশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর