ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

মহাস্থানগড়ের ৪৭ প্রত্নবস্তু যাচাইয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ টিম গঠন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:৪২ পিএম

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি

মহাস্থান জাদুঘর থেকে ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো ৪৭টি প্রত্নবস্তুর সত্যতা, অখণ্ডতা ও সংরক্ষণ অবস্থা যাচাইয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রত্নবস্তুর সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ফ্রান্সের গীমে (Guimet) মিউজিয়ামে বাংলাদেশি প্রত্ননিদর্শনের একটি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। ওই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য মহাস্থান জাদুঘর থেকে ৪৭টি প্রত্নবস্তু ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছিল। প্রদর্শনী শেষে প্রত্নবস্তুগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও সেগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের যাচাই ছাড়াই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।

জানা যায়, ফিরিয়ে আনা প্রত্নবস্তুর মধ্যে কয়েকটি বর্তমানে প্রদর্শনী কক্ষে রাখা হলেও অধিকাংশ দীর্ঘদিন ধরে জাদুঘরের স্টোররুমে সংরক্ষিত রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে তদন্ত কার্যক্রমকে আরও নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক করতে প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গঠিত তদন্ত টিমের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং অধ্যাপক ড. মো. মোকাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নেছা খন্দকার।

গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ টিমটি মহাস্থান জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রত্নবস্তুগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করবে। এরপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রত্নবস্তুগুলোর সত্যতা, সংরক্ষণ অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।

আকাশজমিন /  আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর