ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

আরশোলারা ভয় পায় না, লড়াই চলবে’— শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:৩৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবিরাম আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আজ শনিবার নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় ককরোচ জনতা পার্টির সমবেত শত শত সমর্থকদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বক্তব্যে দীপকে বলেন, “বন্ধুরা, এটা একটা দীর্ঘ সংগ্রাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানোর পর এক মাস পেরিয়ে গেছে; কিন্তু এই ব্যক্তিরা এতটাই নির্লজ্জ যে, ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তারা আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং পোস্ট মুছে ফেলার মতো অন্যান্য অনৈতিক বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছে। আপনারা হয়তো আমাদের ডিজিটাল পোস্ট মুছে ফেলতে পারবেন, কিন্তু রাজপথের এই প্রতিবাদের জায়গা থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারবেন না।” তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আরশোলারা ভয় পায় না। তারা মরেও না। তাই লড়াই চলবে। আমি এখানে এসেছি সেই সব ভাই-বোনদের জন্য, যারা এখনও স্কুলে পড়ে ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে।”

ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আজ শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হয়েছেন শত শত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা সেখানে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অবস্থান নিয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনবরত স্লোগান দিচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ও চরম নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও শহরের প্রবেশসীমানায় ১ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে উল্লেখ করার পর এই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত মন্তব্য অনুযায়ী, এই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনও সম্মানজনক পেশায় স্থান না পেয়ে স্বাধীন সাংবাদিক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী বা আরটিআই কর্মী হিসাবে কাজ করেন ও সমাজ এবং সকলকে যত্রতত্র আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই অপমানজনক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গত ১৬ মে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক অভিনব পথচলা শুরু হয়। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন হিসাবে অত্যন্ত সাধারণ উপায়ে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় ও ঝড় তুলে দেয় সিজেপি। ইতোমধ্যে এই বিকল্প প্ল্যাটফরমের ভার্চুয়াল সমর্থকের সংখ্যা সারা বিশ্বে কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

চলতি বছর ভারতের জাতীয় পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এনইইটি-ইউজি ২০২৬, সিইউইটি, এসএসসি জিডি এবং সিবিএসই পরীক্ষার অন-স্ক্রিন মার্কিং বা পর্দায় নম্বর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে দেশজুড়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী জাতীয় পর্যায়ের এসব পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সরাসরি ব্যর্থতার জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এককভাবে দায়ী করে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত পদত্যাগ দাবি করেছে সিজেপি।


এই যৌক্তিক দাবিতেই রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় অবস্থান ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে শুরুতেই কঠোর শর্ত দিয়ে জানানো হয়— সিজেপির প্রধান সংগঠক যদি সশরীরে এসে লিখিত আবেদন করেন— কেবল তাহলেই এই কর্মসূচি পালনের প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হবে। পুলিশের এই কঠিন শর্তকে তোয়াক্কা না করে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আজ শনিবার সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে করে সরাসরি ভারতে এসে পৌঁছান আন্দোলনের মূল হোতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও পড়াশোনা শেষ করার পর সেই দেশেই স্থায়ীভাবে অত্যন্ত সুনামের সাথে বসবাস করছেন।

দিল্লির এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন ভারতের বিখ্যাত পরিবেশবাদী ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক-ও। সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, দিল্লি পুলিশ যদি কোনো কারণে বা অন্যায়ভাবে তরুণ সংগঠক অভিজিৎ দীপকে-কে গ্রেপ্তার বা আটক করে, তবে তিনি নিজে এর প্রতিবাদে টানা ৬ সপ্তাহের আমরণ অনশনে বসবেন। সোনাম ওয়াংচুক এবং অভিজিৎ দীপকের এমন জোড়া নেতৃত্বের কারণে দিল্লির ছাত্র আন্দোলন এখন আরও বেশি বেগবান হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর হাহাকার আর প্রশ্নফাঁসের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই অহিংস আন্দোলন চলবে বলে সিজেপির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর