হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম চয়ন বনিক (২৪)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার চানদেওয়ার গ্রামের সাহাদেব বনিকের ছেলে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সুরমা চা বাগানের ২০ নম্বর ডিভিশনের ১ নম্বর সেকশনের একটি নিচু ড্রেনের ওপর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমদিকে তার পরিচয় জানা না গেলেও পরে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন চা বাগানের ভেতরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি থানায় জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহের সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা পরিচয় শনাক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের নজরে আসে। ফেসবুকে প্রকাশিত ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা চয়ন বনিককে শনাক্ত করেন। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চয়ন বনিক গত প্রায় চার বছর ধরে ভারতের আগরতলা শহরে বসবাস করতেন। সম্প্রতি তিনি কী কারণে দেশে এসেছিলেন বা কীভাবে হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে যুবকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের স্থান, নিহতের গতিবিধি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
চয়ন বনিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে পুলিশ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।