আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বরগুনার তালতলী উপজেলার আইশোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন পায়রা নদীতে বরশি দিয়ে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে অলি উল্লাহ (২১) নামে এক তরুণ জেলে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তার বাবা লোকমান ফরাজী (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত অলি উল্লাহ তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার সকালে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া গ্রামের অভিজ্ঞ জেলে লোকমান ফরাজী এবং তার তরুণ ছেলে অলিউল্লাহ ফরাজী একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে পায়রা নদীতে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে যান। তারা নদীপথে চলতে চলতে আইশোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছাকাছি গভীর নদীর একটি সুবিধাজনক স্থানে বরশি ফেলে মাছের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে এবং তীব্র বৃষ্টির সঙ্গে বিকট শব্দে একটি শক্তিশালী বজ্রপাত তাদের ট্রলারের ঠিক পাশে নদীর পানির ওপর আঘাত হানে। বজ্রপাতের সেই তীব্র ঝলকানি ও প্রচণ্ড শব্দে ট্রলারে থাকা বাবা ও ছেলে উভয়েই জ্ঞান হারিয়ে গুরুতর আহত হন। বজ্রপাতের তীব্র শকে ছেলে অলি উল্লাহর নাক এবং কান দিয়ে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরবর্তীতে বাবা লোকমান ফরাজী আংশিক সুস্থ হয়ে কোনোমতে ট্রলারটি চালিয়ে মুমূর্ষু ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়ির ঘাটে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ও স্বজনরা নদীঘাট থেকে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পপি হালদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ছেলে অলি উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত অলি উল্লাহর আপন চাচা বেল্লাল ফরাজী গভীর শোক প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিদিনের মতো বাবা ও ছেলে বরশি ফেলে পায়রা নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়েছিল। আইশোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে বরশি ফেলে যখন তারা অপেক্ষারত ছিল, ঠিক ওই সময় বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত ট্রলারের একেবারে পাশে আঘাত হানে। এতে বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ভাতিজা অলিউল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পপি হালদার এই মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, তরুণ অলি উল্লাহকে হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতের তীব্রতার কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে তার আহত বাবাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “বজ্রপাতে তরুণ জেলের নিহতের বিষয়টি আমরা জেনেছি। হাসপাতাল থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।” তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “বজ্রপাতে নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আর্থিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।”