সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 52
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি কথিত মিনি পতিতালয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযানের খবর আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পুলিশের পৌঁছানোর আগেই সেখান থেকে যৌনকর্মী, খদ্দের ও অসামাজিক চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের চরহামকুড়িয়া এলাকায় ৯ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন ‘বুড়ির বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাড়িতে এই অভিযান চালায় তাড়াশ থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটিতে গোপনে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ও পুরুষ এনে সেখানে অনৈতিক কার্যক্রম চালানো হতো বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পেতেন না।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সংবাদ আগেভাগেই পৌঁছে যাওয়ায় বাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা কৌশলে বাড়ির চারপাশ ও পেছনের পথ ব্যবহার করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গেট ও দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। বাইরে থেকে বাড়িটি তালাবদ্ধ ও নির্জন মনে হলেও ভেতরে অনৈতিক কার্যক্রমের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবারই অভিযানের আগাম খবর পেয়ে যায় এই চক্র। ফলে মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুবসমাজ নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। আমরা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এই আস্তানা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাড়াশে যেকোনো ধরনের অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”