মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আহ্বান ও পরামর্শ উপেক্ষা করেই ইরানে পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবরিজ ও ইসফাহান শহরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে গত রোববার রাতে ইরান উত্তর ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈরুতের ওই হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, দাহিয়েহ অঞ্চলটি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ইরানের এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী পাল্টা কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন এবং তাকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তেহরানের সঙ্গে চলমান অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং একটি বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই কারণেই তিনি ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও অনুরোধ একেবারেই কানে নেয়নি ইসরায়েল। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা উপেক্ষা করেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ইরানের ওপর পাল্টা হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়। এর পরপরই তেহরানসহ তাবরিজ ও ইসফাহান শহরে একযোগে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ নিশ্চিত করেছে যে, রাজধানী তেহরানে অন্তত দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া দেশটির অন্যতম প্রধান শহর ইসফাহানেও অন্তত তিনটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এই হামলার পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের কথা না শুনে ইসরায়েলের এই পাল্টা হামলা মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো।