ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

পুলিশের উপস্থিতিতেই যুবককে পিটিয়ে হত্যা: এলাকায় উত্তেজনা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:০৪ পিএম

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে হাসান ওরফে কিং (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ানে হত্যাকাণ্ডের ভিন্ন ভিন্ন কারণ উঠে আসছে। কেউ বলছেন তাৎক্ষণিক তর্কাতর্কি, আবার কারো মতে—ঘটনার পেছনে রয়েছে এলাকায় মাদক বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘদিনের বিরোধ।

রোববার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁদখালী গরুর হাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান চাঁদখালী গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।

পরিবারের দাবি ও অভিযোগ: নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, তাদের ঘরের পাশে প্রস্রাব করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কালিদাসপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুসের সঙ্গে হাসানের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে কুদ্দুস মোবাইল ফোনে নাজমুল হাসান মিন্টু, আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল ও খোকন হাজিসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে আনে। তাসলিমার অভিযোগ, সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা হাসানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো—পুলিশের উপস্থিতিতেই এই বর্বর মারধর চালানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য: স্থানীয় একটি মহলের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শুধু তাৎক্ষণিক বাকবিতণ্ডা নয়, বরং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক পক্ষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, চাঁদখালী ও আশপাশের এলাকায় মাদক বাণিজ্যের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ বেশ কয়েকদিন ধরে তীব্র ছিল। তাদের মতে, প্রস্রাব করার মতো তুচ্ছ ঘটনায় এত অল্প সময়ে এত লোকের সংঘবদ্ধ হওয়া রহস্যজনক।

পুলিশের বক্তব্য: অভিযুক্ত এসআই মঞ্জুরের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার জন্য সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে ওসি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর