ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

. ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল এশিয়া, জারি মহাসুনামি সতর্কতা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:২৯ পিএম

এশিয়ার বুক কাঁপিয়ে ফিলিপাইনে আঘাত হেনেছে ৭.৮ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই ভয়াবহ ভূকম্পনের পরপরই ফিলিপাইনসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে জারি করা হয়েছে তীব্র সুনামি সতর্কতা। যেকোনো সময় উপকূলীয় অঞ্চলে দানবীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভের মাত্র ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ভূকম্পনটি অগভীর হওয়ায় এর তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা। ইতোমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র থেকে একটি জরুরি বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের প্রভাবে ফিলিপাইন উপকূলে প্রায় ১০ ফুট উঁচু প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতে পারে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলেও ৩ ফুটের বেশি উচ্চতার বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে একটি তিনতলা ভবন মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একটি রেস্তোরাঁ ভেঙে পড়ার পর পুরো এলাকা ধূলিকণার বিশাল মেঘে ঢেকে যায়। বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং আতঙ্কিত মানুষজন ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। উদ্ভূত ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং জাপান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তাদের নিজ নিজ দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। দেশগুলোর সরকারি প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে বিপজ্জনক বড় বড় ঢেউ আঘাত হানতে পারে, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস এক জরুরি ও আবেগঘন বার্তায় দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “আপনারা কোনো ধরনের অপেক্ষা না করে, কালবিলম্ব না করে উপকূলীয় অঞ্চল ছেড়ে সবাই দ্রুত উঁচু স্থানে চলে যান।” তিনি আরও জানান, মিন্দানাওয়ের একাধিক উপকূলীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যে সুনামির প্রাথমিক প্রভাব ও ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাউইচি-ও তার দেশের সাধারণ মানুষকে সরকারি সুনামি সতর্কতা কঠোরভাবে মেনে চলার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। জাপানি প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, যদি প্রশাসন থেকে উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার কোনো নির্দেশনা আসে, তবে নিজেদের জীবনের সুরক্ষায় সবাই যেন অতি দ্রুত সেই নির্দেশনা মেনে চলেন। ভূমিকম্পের পর পুরো এশিয়া মহাদেশের উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে চরম সতর্কতা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর