ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালের দিকে আকস্মিকভাবে ওই অঞ্চলটি তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে বলে বিদেশি সংবাদমাধ্যম বা বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূ-তাত্ত্বিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে মেহের নিউজ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ৫ মাত্রার এই মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পটি মূলত সারগাজের কাছে হরমুজগান এবং কারমান প্রদেশে আঘাত হানে। সকালের দিকে হঠাৎ এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে ভূমিকম্প আঘাত হানার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠেছে। ভূমিকম্পের কারণে ওই অঞ্চলের কিছু ঘরবাড়িতে সামান্য ফাটল দেখা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে ইরানের এই ভূমিকম্পের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ সোমবার ফিলিপাইনে এক প্রলয়ংকরী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ফিলিপাইনে আঘাত হানা রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার এই শক্তিশালী ও ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন মানুষের নির্মম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের তীব্রতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ঘরবাড়ি হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে। ধসে যাওয়া এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি হওয়ার সাথে সাথে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ফিলিপাইনে আঘাত হানে। সকালের ওই সময়ে সাধারণত ব্যস্ততা শুরু হয়। ফলে ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে, তখন অনেক মানুষ ইতিমধ্যে তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা ছিল তাদের স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে। হঠাৎ এমন প্রলয়ংকরী কম্পন শুরু হওয়ায় স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত সবার মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি তৈরি হয়। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী ছিল যে এটির প্রভাবে ফিলিপাইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল জায়গায় বড় বড় অনেক ভবন চোখের পলকে মাটিতে ধসে পড়েছে। কিছু কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা দেখে বোঝার উপায় নেই যে সেখানে কোনো বহুতল স্থাপনা ছিল। রাস্তাঘাট এবং বিদ্যুৎ সংযোগও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও সাধারণ মানুষের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে এই ভূমিকম্পের চরম ভয়াবহতা, ভবনের দুলুনি এবং মানুষের দিগ্বিদিক ছুটে চলার দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, তীব্র কম্পনে বড় বড় দালানকোঠা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। বিদেশি গণমাধ্যম মেহের নিউজের সূত্র অনুযায়ী, ফিলিপাইন ও ইরানের এই পরপর দুটি ভূমিকম্পের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ফিলিপাইনে বর্তমানে বড় আকারের উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয় প্রদানের ব্যবস্থা করছে দেশটির সরকার। অন্যদিকে ইরানে ৫ মাত্রার কম্পনের পর সেখানে আর কোনো আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হয় কি না, তা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া ও ভূ-তাত্ত্বিক দপ্তর।