কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বানাসুয়ায় মায়ের ওপর অভিমান করে কীটনাশক পানে সুমাইয়া আক্তার (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সুমাইয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী এবং বানাসুয়া গ্রামের কাতার প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার মেয়ে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সুমাইয়া তার ছোট বোনের সাথে ঝগড়া ও মারামারিতে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তাদের মা নয়ন আক্তার এসে দুই বোনকে বকাবকি করেন এবং শাসন করার জন্য মারধর করেন। মায়ের ওপর রাগ ও অভিমান করে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নিজ বসত ঘরে গিয়ে ঘরে থাকা কেরির ওষুধ (কীটনাশক) পান করে সুমাইয়া। বিষপানের পর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে থাকলে মা ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী ওয়াশ (পরিষ্কার) করে দ্রুত ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে না জানিয়ে স্বজনরা সকালে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে এলাকার লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেয়। সংবাদ পেয়ে চএখীল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াদুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
এরপর দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ আবারও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রীর মা নয়ন আক্তার বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন।
আকাশজমিন /
আরআর