নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের দিঘলিয়া এলাকায় সরকারি জমি থেকে ৩৫টি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে ফেলার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া গ্রামের বিল্লা মোল্লার ছেলে সাইফ উদ্দিন মোল্লা গত তিনদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে ১৬ শতক সরকারি জমির এই গাছগুলো কেটে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সাইফ উদ্দিন গোপালগঞ্জ জজ কোর্টের মাস্টাররোল কর্মচারী এবং তাঁর স্ত্রী নড়াইলের একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কর্মরত থাকায় স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই দুঃসাহসিক কাজ করেছেন বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন। নড়াইল সদর উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ এই কাঠের গুঁড়ি জব্দ করা হয়েছে।
দিঘলিয়া গ্রামের শামীম মোল্যাসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দিঘলিয়া এলাকায় সরকারি খাস জমির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বেড়ে ওঠা এই ৩৫টি মেহগনি গাছ গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কেটে ফেলেন সাইফ উদ্দিন। গাছগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। সরকারি সম্পত্তি এভাবে লুটের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী জানান, সাইফ উদ্দিন নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে দিনের আলোতেই এই গাছগুলো কাটেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ত্বরিত পদক্ষেপের আগেই অভিযুক্ত সাইফ উদ্দিন কিছু গাছ সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন এবং ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে বিচার ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা, সেখানে খোদ আদালতের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন চুরির অভিযোগ ন্যাক্কারজনক। দিঘলিয়া গ্রামের মানুষ দ্রুত এই ঘটনার বিচার এবং অভিযুক্ত সাইফ উদ্দিনের গ্রেফতার দাবি করেছেন। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাছগুলো কেটে ট্রাক্টরযোগে পাচারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তবে প্রশাসনের উপস্থিতিতে পাচারকারী চক্রের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবে সাইফ উদ্দিন আত্মগোপনে থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, "সরকারি জায়গা থেকে বেআইনিভাবে গাছ কাটার খবর পাওয়া মাত্রই আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি আমলে নিই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে ইউনিয়নের ইউনিয়ন নায়েব (ভূমি কর্মকর্তা) কে পাঠানো হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে কর্তনকৃত ৩৫টি মেহগনি গাছের গুঁড়ি জব্দ করা হয়েছে। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।" বর্তমানে জব্দকৃত গাছগুলো স্থানীয় প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে। বন আইন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা আইন অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি চলছে। দিঘলিয়া এলাকায় বর্তমানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও মূল অভিযুক্তের গ্রেফতার নিয়ে গ্রামবাসী এখনও সন্দিহান। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে প্রভাবমুক্ত থেকে এই তদন্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়।
আকাশজমিন / আরআর