অনলাইন ডেস্ক:
দেশের প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল মালিকদের কর জালের (Tax Net) আওতায় আনতে একটি নতুন মহাপরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর বা এআইটি (Advance Income Tax) আরোপের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে করযোগ্য আয় নেই এমন লাখ লাখ বাইক মালিকের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন (TIN) না থাকায়, এই কর ঠিক কোন পদ্ধতিতে আদায় করা হবে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে এনবিআর কর্মকর্তাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কর আদায়ের রোডম্যাপ ও প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে।
এনবিআরের বাজেট প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, অগ্রিম আয়কর আদায়ের জন্য মূলত দুটি ভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক বাইক মালিকের টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা হতে পারে এবং টিন নম্বরের বিপরীতেই এই এআইটি আদায় করা হবে, যাতে করে বিপুল সংখ্যক চালক ধীরে ধীরে দেশের মূল ট্যাক্স সিস্টেমের মধ্যে চলে আসেন। অন্যদিকে বাইকারদের হয়রানি ও ঝামেলা কমাতে বিকল্প আরেকটি চিন্তাও রয়েছে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে বিআরটিএ (BRTA) থেকে যেভাবে প্রতি বছর বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা হয়, সেই ফি’র সঙ্গেই অগ্রিম আয়করের টাকা একবারে যুক্ত করে আদায় করা হতে পারে। এতে যাদের ন্যূনতম করযোগ্য আয় নেই, তাদের আলাদা করে টিন নম্বর নেওয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান এই চিন্তাকে ইতিবাচক ও যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, আয়ের দিক থেকে করের ন্যূনতম ধাপে না থাকলেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য বাইক মালিকদের করের আওতায় আনা দরকার। তবে করের হারটি অবশ্যই সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে হতে হবে।
আগামী জুন মাসে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন, তাতে ইঞ্জিন ক্ষমতা বা সিসি অনুযায়ী অগ্রিম আয়করের সম্ভাব্য হার নির্ধারণের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ১১০ সিসি পর্যন্ত বাইক সাধারণ মানুষের ব্যবহারের কথা চিন্তা করে সম্পূর্ণ আওতামুক্ত বা ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি বাইকের জন্য বার্ষিক সর্বনিম্ন কর ২,০০০ টাকা, ১২৬ সিসি থেকে ১৬৫ সিসি বাইকের জন্য বছরে ৫,০০০ টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি বা হাই-সিসি বাইকের ক্ষেত্রে বছরে ১০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি দেশের ব্যাটারিচালিত ও সাধারণ অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স সংগ্রহের সময় পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় বার্ষিক কর ৫,০০০ টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২,০০০ টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনার খবর আসতেই রাইড শেয়ারিং ও ফুড বা প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রবিবার বাইক মালিক ও চালকেরা আগারগাঁওয়ে এনবিআর প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এবং কর বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম এমনিতেই আকাশচুম্বী। তার ওপর এই অতিরিক্ত করের বোঝা সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
আকাশজমিন /
আরআর