ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

২০২৭ সালের ‘আর্টেমিস ৩’ মিশনের ক্রু চূড়ান্ত করল নাসা


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:৩৯ এএম

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার লক্ষ্যে চাঁদের পথে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে জটিল’ ও যুগান্তকারী অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের বহুল প্রতীক্ষিত পরবর্তী চন্দ্র অভিযান ‘আর্টেমিস ৩’ মিশনের জন্য নির্বাচিত চূড়ান্ত নভোচারীদের নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। মহাকাশ বিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আগামী ২০২৭ সালে এই ঐতিহাসিক মিশনটি উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নাসার সদর দফতর থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘আর্টেমিস-৩’ হতে যাচ্ছে মানব ইতিহাসের অন্যতম একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ মহাকাশ অভিযান। এই অনন্য অভিযানে নির্বাচিত নভোচারীরা নাসার তৈরি অত্যাধুনিক ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানে চেপে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস রকেটের মাধ্যমে মহাশূন্যে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। চাঁদের অনাবিষ্কৃত দক্ষিণ মেরুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজ সম্পন্ন করবে এই দল।

ঐতিহাসিক এই চন্দ্র মিশনের মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন চারজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নভোচারী। চাঁদের দেশে পাড়ি জমানো এই আন্তর্জাতিক দলের মিশন কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন নাসার অভিজ্ঞ নভোচারী র‌্যান্ডি ব্রেসনিক। মহাকাশযান পরিচালনার গুরুদায়িত্ব তথা পাইলট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) ইতালীয় বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় নভোচারী লুকা পারমিতানো। এছাড়া এই জটিল মিশনে কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন নাসার দুই বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক রুবিও এবং আন্দ্রে ডগলাস।

মূল দলের পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নাসার আরেক দক্ষ নভোচারী বব হাইনসকে ব্যাকআপ ক্রু সদস্য হিসেবে দলের সাথে যুক্ত রাখা হয়েছে। তিনি মূল চারজন ক্রু সদস্যের সাথেই সমানতালে সমস্ত কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন, যাতে মূল দলের কেউ অসুস্থ বা অপারগ হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

মহাকাশচারীদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় ও নাম ঘোষণার জন্য আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের সম্মানিত পরিচালক ভ্যানেসা উইচে গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এই অনন্য মিশনটি সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের গভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। মানবজাতির মহাকাশ জয়ের এই মহাকাব্যিক যাত্রা পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য এক বিশাল আনন্দের বার্তা এবং নতুন সম্ভাবনার দুয়ার নিয়ে আসবে।’

নাসার এই বিশেষ অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন পূর্ববর্তী ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান প্রতীকীভাবে একটি ব্যাটন ‘আর্টেমিস-৩’ দলের নতুন কমান্ডার র‌্যান্ডি ব্রেসনিকের হাতে তুলে দেন। ব্যাটন হাতে নিয়ে নতুন কমান্ডার ব্রেসনিক বলেন, ‘আমাদের পূর্ববর্তী আর্টেমিস-২ মিশন সারা বিশ্বের মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা তাদের সেই অনুপ্রেরণার মশাল আরও উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করে মহাকাশ বিজ্ঞানের সীমানাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’ এই মিশনের সফলতার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্ন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর