ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

লাশ ময়নাতদন্তে নিয়ে গেল ভারতীয় পুলিশ

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ মুজিব নিহত


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৩ জুন, ২০২৬ সময় : ২:০৬ এএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিব আলী (২০) নামের বাংলাদেশি এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। দত্তগ্রাম সীমান্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের আওতায় পড়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, বিএসএফ নিহত মুজিবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছে।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর তারা লাশ হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে। নিহত মুজিব আলী একই এলাকার বাসিন্দা মৃত অজিব উল্লাহর ছেলে। শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, নিহত মুজিব চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন বলে জানা গেছে। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দত্তগ্রাম সীমান্তে মনু নদ দেশের সীমানা ভাগ করে দিয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দত্তগ্রামের বাসিন্দা মুজিবসহ ছয়-ছয়জন বাংলাদেশি মনু নদ পার হয়ে সীমান্তের ১৮৫২ ও ১৮৫৩ নম্বর মূল সীমান্তখুঁটির মাঝখান দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েন।

সেখানে বিএসএফের টহলদল তাঁদের দেখে বাধা দেয়। একপর্যায়ে টহলদলের সদস্যরা গুলি চালালে মুজিব ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সহযোগীরা দ্রুত সটকে পড়েন। এ দিকে গুলির শব্দ পেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা বিস্তারিত জানান। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রায়শই বিএসএফ কর্তৃক এভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। মানবাধিকার সংস্থাসমূহ বারবার সীমান্তে মরণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও বিএসএফের এই আগ্রাসী নীতি বন্ধ হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্যের দেওয়া তথ্য মতে, মনু নদের তীরবর্তী ওই এলাকাগুলোতে কর্মসংস্থানের অভাব এবং সীমান্ত পাহারার ফাঁকফোকর গলে কিছু তরুণ এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়ন এই হত্যাকাণ্ডের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে এবং বিএসএফের পক্ষ থেকে লাশ হস্তান্তরের পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর