কুমিল্লা অঞ্চলের নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং বিশ্বের একমাত্র মুসলিম মহিলা নবাব নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, স্বাধীনতা পদকে ভূষিতকরণ এবং তাঁর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী উনিশ শতকে নারী শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় ফয়জুন্নেছা ইংরেজি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা সে সময় নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তিনি শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই প্রতিষ্ঠা করেননি; বরং অসংখ্য বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর দানশীলতা ও মানবিক কর্মকাণ্ড আজও ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
বাংলা সাহিত্যেও নবাব ফয়জুন্নেছার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘রূপ জালাল’ গ্রন্থ রচনা করেন, যা উপমহাদেশের মুসলিম নারীদের প্রকাশিত প্রথম দিকের গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। সাহিত্যচর্চা ও জ্ঞান-বিকাশে তাঁর এই অবদান বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মানবসেবা, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৮৯ সালে ব্রিটিশ মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। মুসলিম নারী হিসেবে এই বিরল সম্মান অর্জনের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তাঁর চিঠিতে নবাব ফয়জুন্নেছার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর জীবন, কর্ম ও সাহিত্যকীর্তিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তি এবং গবেষণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর অবদান জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে দেশের ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তাঁর সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।