ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

মাদারীপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও বই বিতরণ


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:১০ পিএম

রাজীব বিশ্বাস, মাদারীপুর

‘আলোকিত মানুষ চাই’ এই কালজয়ী ও মহৎ স্লোগানকে সামনে রেখে মাদারীপুরে স্কুল পর্যায়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জাতীয় ভিত্তিক উৎকর্ষ তথা বইপড়া কার্যক্রমের ব্যাপক সম্প্রসারণ, বই বিতরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টায় মাদারীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের বিশেষ আর্থিক সহায়তায় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদারীপুর সদর উপজেলার ৫টি নির্বাচিত খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানের শুভ শুরুতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি মেধা যাচাই ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মূল আলোচনা সভা শেষে কুইজে অসামান্য কৃতিত্ব দেখানো বিজয়ী ৪০ জন শিক্ষার্থীর হাতে বিশেষ পুরস্কার হিসেবে আকর্ষণীয় বিভিন্ন ধরনের বই ও প্রশংসনীয় সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামানের দূরদর্শী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ মর্জিনা আক্তার। পুরো মননশীল অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম-পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মানুষের ভেতরকার প্রকৃত জ্ঞানপিপাসা বাড়াতে হবে এবং এই পিপাসা মেটানোর একমাত্র শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো ভালো বই। নিজেদের অন্তর্নিহিত জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প পৃথিবীতে নেই। আগামীর সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে তুলে ধরবার জন্য একাডেমিক বা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সব ধরনের সৃজনশীল বই পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের খুবই দরকার।” তিনি বই পড়াকে কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা বা দায়িত্ব মনে না করে, মনকে বিকশিত করার আনন্দের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদারীপুর জেলার সকল বিদ্যালয়ে এই মহৎ কর্মসূচি চালুর ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিক সহযোগিতা করার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মাদারীপুর শাখার বিশিষ্ট সংগঠক লিখন মাহমুদ। তিনি মাদারীপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে নতুন যুক্ত হওয়া ৫টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের আলোর ভুবনে আন্তরিক স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি মিলন সব্যসাচী এবং বিকাশ লিমিটেডের ভিপি অ্যান্ড হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স হুমায়ূন কবির। বক্তারা শিক্ষার্থীদের মননশীলতা গঠন ও সৃজনশীলতার বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি এই ধরনের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই মহৎ উদ্যোগে পাশে থাকার জন্য বিকাশ লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানের চমৎকার সব মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেছেন তরুণ আলোকচিত্রী তানজিদ মোর্শেদ খান নিবীড়।

এ বছর মাদারীপুর সদর উপজেলার যে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ঐতিহ্যবাহী বইপড়া কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়েছে সেগুলো হলো—জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডনোভান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ আমিনউদ্দিন হাই স্কুল, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এবং জুলিও কুরী উচ্চ বিদ্যালয়। কর্মসূচির নিয়মানুযায়ী, আকর্ষণীয় বইসমূহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে সরাসরি স্কুলে সরবরাহ করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুল থেকেই বই সংগ্রহ ও পরিবর্তন করে বাড়িতে পড়ার সুযোগ পাবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর