ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

পরিবারের অগোচরে পুকুরে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:৩৭ পিএম

ঘোড়াঘাট উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে নবীর হোসেন (দেড় বছর) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় পৌরসভার সাগরপুর মহল্লার দক্ষিণাপাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত নবীর হোসেন স্থানীয় ভ্যানচালক মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সারাদিন কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরেন মোহাম্মদ আলী। বাড়ি ফেরার পর তিনি বাড়ির অদূরে অবস্থিত একটি পুকুরে পালিত হাঁস আনতে যান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অজান্তেই ছোট্ট নবীর বাবার পিছু নেয়। তবে শিশুটি যে বাবার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছে, বিষয়টি পরিবারের কেউ খেয়াল করেননি।

পরে মোহাম্মদ আলী পুকুর থেকে হাঁস নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, নবীরকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। বাড়ির আঙিনা, আশপাশের রাস্তা, প্রতিবেশীদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানো হয়।

একপর্যায়ে নবীরের বড় ভাই নাইম ইসলাম বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুটিকে ভাসতে দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। অনেকেই এমন মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নবীর ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও সবার আদরের শিশু। প্রতিদিনের মতো খেলাধুলা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল সে। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে শিশুটি পুকুরে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য শিশু পুকুর, খাল, বিল ও জলাশয়ে ডুবে প্রাণ হারায়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির আশপাশে খোলা পুকুর ও জলাশয় থাকায় শিশুদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। অভিভাবকদের সামান্য অসতর্কতার সুযোগে অনেক সময় ছোট শিশুরা বাড়ির বাইরে চলে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়।

শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সবসময় প্রাপ্তবয়স্ক কারও তত্ত্বাবধানে রাখা জরুরি। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা জলাশয় থাকলে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুদের চলাফেরার ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং পরিবারকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ঘোড়াঘাটের এ মর্মান্তিক ঘটনাও আবারও মনে করিয়ে দিল, শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবারের সর্বোচ্চ সতর্কতা কতটা জরুরি। একটি মুহূর্তের অসতর্কতায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও আনন্দ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

দেড় বছরের শিশু নবীর হোসেনের অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

   আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর