ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

২০২৬ বিশ্বকাপ: ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ও লাভজনক আসর?


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:৩৬ পিএম

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক রাজস্বের দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরে প্রথমবারের মতো দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮-এ উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে ম্যাচ সংখ্যা, সম্প্রচার স্বত্বের বাজার, টিকিট বিক্রি এবং কর্পোরেট স্পনসরশিপ সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ফিফার বাজেট পরিকল্পনা ও আর্থিক পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৩–২০২৬ চক্রে সংস্থাটির মোট রাজস্ব প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই রাজস্বের বড় অংশ আসবে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক মিডিয়া রাইটস, স্পনসরশিপ ও হসপিটালিটি বাজার থেকে। বিশেষ করে ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট কাঠামোর কারণে ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য আরও বেড়েছে বলে ফিফার আর্থিক পরিকল্পনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বিশাল বিজ্ঞাপন ও কর্পোরেট বাজার এই আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৮.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হতে পারে বলে বিভিন্ন আর্থিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য আয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৬ সালের পূর্বাভাস বোঝার জন্য ২০২২ বিশ্বকাপের আর্থিক চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিফার বার্ষিক রিপোর্ট ২০২২ অনুযায়ী ২০১৯–২০২২ চার বছরের চক্রে মোট রাজস্ব ছিল প্রায় ৭.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বিশ্বকাপ-সম্পর্কিত মিডিয়া ও বাণিজ্যিক অধিকার থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া টিকিট বিক্রি ও হসপিটালিটি খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯২৯ মিলিয়ন ডলার। ফিফার রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ২০১১–২০১৪ চক্রে আয় ছিল প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৫–২০১৮ চক্রে তা বেড়ে প্রায় ৫.২ থেকে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর ২০১৯–২০২২ চক্রে তা আরও বেড়ে ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে বিশ্বকাপ প্রতি চার বছর পর পর আরও বড় বাণিজ্যিক ইভেন্টে পরিণত হচ্ছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বৃদ্ধি, ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উত্তর আমেরিকার বিশাল বাণিজ্যিক বাজারকে কেন্দ্র করে আয় আরও বাড়বে বলে ফিফার বাজেট পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট এবং প্রিমিয়াম হসপিটালিটি—সব মিলিয়ে আয় নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বকাপ এখন শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম; যেখানে ফিফার আয় প্রতি চক্রেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই ধারাবাহিকতায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ইভেন্টে পরিণত হওয়ার শক্তিশালী সম্ভাবনা রাখে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর