যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় ১১ জন স্কাইডাইভার ও ১ জন পাইলট নিহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেটস কাউন্টি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট (জরুরি ব্যবস্থাপনা) এর এক মুখপাত্র জানান, স্থানীয় সময় গত রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানটি উড্ডয়ন করে। একটি স্কাইডাইভিং কোম্পানি এটি ভাড়া করেছিল।
ওই মুখপাত্র জানান, বিমানটি উড্ডয়নের পর প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উঠতে ব্যর্থ হয়। এরপর এটি হঠাৎ বাঁ দিকে মোড় নেয় এবং বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দরের মাত্র ২০০ গজ দূরে আছড়ে পড়ে। বিমানে থাকা ১২ আরোহীর সবাই মারা গেছেন।
গত রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমরা এটিকে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছি।’ শেরিফ জানান, বিধ্বস্ত বিমানটি কোনো বাণিজ্যিক এয়ারলাইনের মালিকানাধীন ছিল না। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল একটি স্থানীয় বিমান। এটি আমাদের স্থানীয় বিমানবন্দর থেকেই উড্ডয়ন করেছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, বিমানটি ছিল প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি৭৫০ মডেলের। বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময়ই এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
এফএএ জানায়, ওই সময় বিমানটির জন্য কোনো এয়ার ট্রাফিক (আকাশপথ পরিবহন) সার্ভিস চালু ছিল না। একজন মুখপাত্র ব্যাখ্যা করেন, বিমানটি যে ধরনের আকাশসীমা দিয়ে উড়ছিল, সেখানে নিয়মানুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার প্রয়োজন ছিল না।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে কোনো স্কাইডাইভার বিমান থেকে লাফ দিয়েছিলেন কি না, উদ্ধারকর্মীরা তা পুরো এলাকায় জোরদার তল্লাশি করে দেখেছেন। শেরিফ জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের কয়েকজন স্বজন নিজের চোখে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেখেছেন। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
মিজৌরির বাটলার শহরটি কানসাস সিটি থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। এফএএ জানিয়েছে, ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এ দুর্ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে।