মোহাম্মদ বাকী অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নবগঠিত পাঁচটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ জুন) মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে আয়োজিত এ সভায় কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (এমপি)। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় নবগঠিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নগর উন্নয়নের রূপরেখা, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, টেকসই নগরায়ণ এবং জনসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পসমূহ তুলে ধরেন।
সভায় নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (এমপি) বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক, বাসযোগ্য ও স্মার্ট নগর গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। তিনি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নবগঠিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলো স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং স্মার্ট নগর গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সভা শেষে উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।