সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 52
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি ছাগলকে কামড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি কুকুরকে হত্যা এবং একটি কুকুরকে গুরুতরভাবে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জয়নুল আবেদীন ওরফে জুলু খন্দকার (৫৫) নামের এক পাদুকা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান তাড়াশ থানার পুলিশের একটি দল নিয়ে অভিযুক্ত জয়নুল আবেদীন ওরফে জুলু খন্দকারের বাড়িতে অভিযান চালান। তবে সেখানে গিয়ে তাকে বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারুহাস বাজার পাড়া গ্রামের বিশা খন্দকারের ছেলে মো. জুলু খন্দকারের একটি ছাগলকে বাজার এলাকায় থাকা কোনো একটি কুকুর কামড়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি একটি ধারালো লোহার ফালা জাতীয় দেশীয় অস্ত্র তৈরি করেন। পরে বাজারে থাকা দুইটি কুকুরকে ওই অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সোমবার সন্ধ্যায় আরও একটি কুকুরকে একই ধরনের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে অস্ত্রটি কুকুরটির শরীর ভেদ করে এপার-ওপার হয়ে যায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত কুকুরটির আর্তনাদ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে কোনো এক ব্যক্তি আহত কুকুরটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাড়াশে পাখি ও প্রাণী নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভিলেজ ভিশন’-এর পরিচালক শরীফ খন্দকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, কুকুর নিধনের ঘোষণা দিয়ে প্রাণীর প্রতি এ ধরনের নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযুক্ত জয়নুল আবেদীনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযুক্তের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয়। তবে তাকে বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।