সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 36
ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। বিশ্বকাপকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীরা মেতে উঠেছেন ফুটবল উন্মাদনায়। একই সঙ্গে বেড়েছে বিভিন্ন দেশের জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রীর বিক্রি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলনবিল অঞ্চলে এ সময়ে কৃষিনির্ভর অনেক মানুষের কাজ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে অবসর সময়কে আনন্দমুখর করে তুলতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় উদ্যোগে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে বিভিন্ন মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
খেলার আগে ব্যান্ডপার্টির সুরে মাইকিং করে দর্শকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। খেলার মাঠে বাদ্যযন্ত্রের বাজনা, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং মুহূর্তে মুহূর্তে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শকরা খেলা দেখতে আসেন। এ সুযোগে মাঠের পাশে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিরাও তাদের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করেন।
তাড়াশের প্রবীণ ফুটবলার আব্দুর রশিদ জানান, সাধারণত শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে এসব খেলার আয়োজন করা হয়। বিবাহিত বনাম অবিবাহিত, ছেলের বাবা বনাম মেয়ের বাবা, নবীন বনাম প্রবীণ খেলোয়াড়সহ নানা ব্যতিক্রমী নামে ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
তাড়াশ বাজারের ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রেতা আকবর আলী বলেন, সারা বছরই ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রি হয়। তবে বিশ্বকাপের সময় ফুটবল ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী জার্সির সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আগের তুলনায় দামও বেড়েছে। ফলে অনেক সময় গ্রাহকদের সঙ্গে দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।”
স্থানীয় সাবেক ফুটবলাররা জানান, জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, খেলাকে ঘিরে মানুষের অংশগ্রহণ এবং আনন্দই সবচেয়ে বড় বিষয়। খেলা শেষে অনেক জায়গায় বনভোজনের আয়োজন করা হয়। সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে অনেক ছেলে-মেয়ে মোবাইল ফোনের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর বিপরীতে মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলায় অংশ নেওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। এতে শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জাতীয় পর্যায়ের খেলার উপযোগী আধুনিক মাঠ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে চলনবিল অঞ্চলের প্রতিভাবান ফুটবলাররা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা তুলে ধরার আরও বড় সুযোগ পাবেন।
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তাড়াশের মাঠগুলো এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। খেলা, দর্শক, জার্সি বিক্রি এবং সামাজিক মিলনমেলার মধ্য দিয়ে ফুটবল যেন নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে চলনবিলের জনজীবনে।