ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম

ইরান-মার্কিন চুক্তি: প্রধান মিত্রের কাছেই একঘরে ও অপদস্থ নেতানিয়াহু


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:৫০ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এক গভীর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে ফেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের তিনটি মূল স্তম্ভকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে, যার ফলে দেশের ভেতরে ও বাইরে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ওয়াশিংটনের প্রধান পরামর্শদাতা এবং মার্কিন রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে দাবি করা নেতানিয়াহু এবার তার প্রধান মিত্রের দ্বারাই দৃশ্যত একঘরে ও প্রকাশ্যে অপদস্থ হয়েছেন। বিশেষ করে, বৈরুতে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই হামলায় নেতানিয়াহু কোনো বিচারবুদ্ধির পরিচয় দেননি। আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই চুক্তি নেতানিয়াহুর ‘নিরাপত্তার দূত’ ভাবমূর্তিকে চরম বিতর্কের মুখে ফেলেছে।

মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা সিমা শাইনের মতে, লেবাননে কী ঘটবে তা ইরানকে সিদ্ধান্ত নিতে দিয়ে মূলত হিজবুল্লাহকে সেখানে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহল কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। নেতানিয়াহুর সামনে এখন কোনো সহজ বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। নেসেটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় সবচেয়ে বড় মিত্র আমেরিকার সাথে সরাসরি ও ধ্বংসাত্মক সংঘাত, অথবা ইসরায়েলি স্বার্থের বশ্যতামূলক আত্মসমর্পণ।

চাপ আসছে নেতানিয়াহুর নিজের ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকেও। কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আমরা এই চুক্তির অংশীদার নই, কারণ এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। সার্বিক এই সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত যেকোনো পরিস্থিতিতে জয় দাবি করতে তৎপর থাকা নেতানিয়াহুর এই নীরবতা মূলত পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তার চরম অসহায়ত্ব ও দ্বিধাদ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। ইরানে শাসন পরিবর্তন হলে হয়তো তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সহজ হতো। কিন্তু তার নতুন নিরাপত্তা নীতি এখন তাকে কোনো শত্রুর সামনে নয়, বরং নিজের প্রধান মিত্র আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত অথবা আত্মসমর্পণের কঠিন মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর