ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রায়গঞ্জে জলাবদ্ধতার অভিশাপ: পানির নিচে ৮৩৩ হেক্টর আবাদি জমি


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:৫৩ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখন ঝুঁকির মুখে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্রাকৃতিক খাল-বিল ভরাট এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে এই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৪টি গ্রামের ৮৩৩ হেক্টর কৃষিজমি বছরের অধিকাংশ সময় তলিয়ে থাকছে পানির নিচে। এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কেবল স্থানীয় কৃষকদের জীবন-জীবিকাই ধ্বংস করছে না, বরং তা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি বিভাগের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক অবস্থায় রায়গঞ্জের এসব উর্বর জমিতে বছরে হেক্টর প্রতি প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ টন পর্যন্ত ধান উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা এখন দিশেহারা। পরিসংখ্যান বলছে, এই সমস্যার ফলে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টন ধান উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও প্রতি বছর কৃষকদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এই বিশাল অংকের ক্ষতি স্থানীয় অর্থনীতির চাকা অচল করে দিয়েছে।

জলাবদ্ধতার নেপথ্যে বহুমুখী অব্যবস্থাপনা উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সরেজমিন অনুসন্ধানে জলাবদ্ধতার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:

এক সময়ের প্রমত্তা খাল ও নদীগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এর ওপর অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথগুলো পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি বা বন্যার পানি নামার কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।

 বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের সময় পানির স্বাভাবিক গতিপথ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিবেচনা করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সরু কালভার্ট ও অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের ফলে পানি আটকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক মৎস্য খামার বা পুকুর খনন করার ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া কৃষিজমি ভরাট করে বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকের হাহাকার ধুবিল ইউনিয়নের চকদাদপুর গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জীবনধারণের তাগিদে তারা কতটা অসহায়। দীর্ঘ বছর ধরে তারা এই জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন। স্থানীয় কৃষক রহিম মিয়া বলেন, “জমি আছে, কিন্তু চাষ করতে পারি না। বছরের অধিকাংশ সময় জমি পানির নিচে থাকে। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।” জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে কচুরিপানা ও অপ্রয়োজনীয় আগাছার দাপট বেড়েছে, যা কৃষিজমিকে চাষের অনুপযোগী করে তুলেছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে রিকশা চালানো বা দিনমজুরির পেশায় শহরমুখী হচ্ছেন।

প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী সমাধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউল ইসলাম পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাধ্যমতো পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু এটি এখন একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শুধু কৃষি পরামর্শ দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগ। মৃতপ্রায় খালগুলো দ্রুত পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পানি প্রবাহের সকল বাধা অপসারণ করা জরুরি।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রায়গঞ্জের কৃষি অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অবৈধ দখলমুক্তকরণ ছাড়া এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার আর কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের বাঁচাতে এবং উৎপাদন সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী হাজারো কৃষক। সময় থাকতেই পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে অত্র অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর