সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 57
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, নিহত নুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা দুটি ট্রাক একে অপরকে ওভারটেকিং করার জন্য পাল্লাপাল্লি করছিল। ট্রাকচালকদের এই গতির প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কর্তব্যরত এটিএসআই নুরুল ইসলামকে সজোরে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত নুরুল ইসলাম বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার বোহাইল গ্রামের আফসার আলীর সন্তান। কর্মস্থলে তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালকও এই দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
ওসি আমিরুল ইসলাম আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঘাতক ট্রাকের চালকের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে কঠোর মামলা দায়ের করা হবে। চালক সুস্থ হওয়ার পরপরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ এখন এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে, বিশেষ করে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করে কেন এমন গতির প্রতিযোগিতা করা হচ্ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে প্রায়ই ভারী যানবাহনগুলোর চালকদের গতির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। ট্রাফিক আইন না মেনে ওভারটেকিং করার প্রবণতা মহাসড়কের নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ফেলছে। সাধারণ মানুষের মতে, মহাসড়কে পুলিশের কড়া নজরদারি এবং চালকদের লাইসেন্স ও গতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা এভাবে অকালে প্রাণ হারানোয় সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।