দেশের বাজারে সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫ শতাংশের পরিবর্তে সরকারের বাজেট নির্দেশিকা অনুযায়ী ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। নতুন এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ অত্যন্ত ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। বাজুসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যা আগের দামের তুলনায় ভরিপ্রতি একলাফে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ১৩ টাকা কম। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন এ দাম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে দেশের বাজারে এই দাম নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে, গত ১৫ জুন ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে প্রচলিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক ভরি স্বর্ণালংকারের মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৩ টাকা। তবে আজ থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের সেই ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে নতুন দাম কমিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
এ ছাড়া নতুন তালিকা অনুযায়ী ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। অন্যদিকে সোনার দাম কমার পাশাপাশি একই সাথে ভ্যাটসহ রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজুস। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের বাজারে সোনার দাম এভাবে একলাফে কমে যাওয়ার পেছনে সরকারের নতুন বাজেট বড় ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সোনার দামে প্রচলিত শতকরা ভ্যাট কমানোর একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব দেওয়া হয়। দেশে সোনা ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় আগে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে চড়া মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট দিতে হতো ক্রেতাদের। তবে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট আরোপের নতুন প্রস্তাব করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ভরি সোনার ওপর এখন থেকে শতকরা হারের পরিবর্তে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলেই এবার ভ্যাটসহ সরাসরি চূড়ান্ত ও কম দাম নির্ধারণ করে সাধারণ ক্রেতাদের বড় স্বস্তি দিল জুয়েলারি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাজুস।