ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ

ইরানের সাথে পরমাণু আলোচনায় সুইজারল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত


  • আপলোড সময় : শনিবার ২০ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:৪৮ পিএম

ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তির শর্ত মেনে শান্তি আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই শান্তি আলোচনায় শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর সফরটি স্থগিত করা হয়। মূলত লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণেই মার্কিন প্রতিনিধি দলে এই রদবদল করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে গতকাল শুক্রবার লেবাননে অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। লেবাননে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের জোরালো সামরিক অভিযানের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল। কারণ তেহরানের পক্ষ থেকে এই শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির এই ইতিবাচক খবর প্রকাশের পরপরই শান্তি আলোচনায় বসতে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সুইজারল্যান্ড সফরের চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে আসে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি আনয়ন এবং আলোচনার পথে থাকা প্রাথমিক বড় বাধাটি দূর হলো বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জানাশোনা রয়েছে, এমন একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস গতকাল জানায়, বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ মূলত একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথম দফা আলোচনার উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ড সফর করছেন। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের তোয়াক্কা না করে লেবাননে নৃশংসতা বাড়িয়েছিল ইসরায়েল, যেখানে মাত্র এক দিনেই অন্তত ৪৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। এমনকি হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এর ঠিক এক দিন আগেই নিজের পূর্বনির্ধারিত সুইজারল্যান্ড যাত্রা স্থগিত করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই লাগাতার হামলা অব্যাহত থাকার জেরেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরানের সাথে সেই মুহূর্তে আলোচনায় বসতে চাননি এবং সুইজারল্যান্ডে যাননি।

উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে জানান, তিনি স্বয়ং ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। উক্ত সংবাদমাধ্যমটির একজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে বলেছেন, মাঝেমধ্যে শান্ত হতে হয় এবং মাথা খাটাতে হয়।’ তবে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন কি না, তা তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি।

দিনভর তীব্র গোলাগুলির পর লেবাননের স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল চারটার দিকে এই যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের আলোচকেরা ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর কাছে এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত বুধবার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সেই ধারাবাহিকতায় একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির রূপরেখা তৈরি করতে গতকাল থেকে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশযাপন কেন্দ্রে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই বিশেষ বৈঠকে বসার কথা ছিল। যদিও কট্টর ইহুদিবাদী ইসরায়েলি নেতারা বরাবরই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক সমঝোতা নস্যাৎ করতে চেয়েছিল, তবে বিশ্ব শান্তির স্বার্থে মার্কিন প্রশাসন আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত রেখেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর