ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফারস এসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) আসন্ন নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খোদ সংগঠনের ভেতরে ও ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং রদবদলের জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দেশের পেশাদার গলফারদের এই শীর্ষ সংগঠনের আগামী দিনের হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতি এখন বেশ তুঙ্গে। এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের পদে আসীন হওয়ার লক্ষ্যে জি এম কামরুল ইসলাম গত কিছুদিন ধরে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে ব্যাপক যোগাযোগ এবং সমর্থন সংগ্রহের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও যেকোনো গণতান্ত্রিক বা পেশাদার সংগঠনের নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সক্রিয়তা একটি স্বাভাবিক বিষয়, তবে তার এই আকস্মিক তৎপরতা ও প্রার্থিতা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের একটি বড় অংশে নানা প্রশ্ন ও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র অনুযায়ী, জি এম কামরুল ইসলাম ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার অত্যন্ত প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবশালী সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার পরিচিতি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ক্রীড়া সংগঠনের এই নির্বাচনে তার এই বাড়তি আগ্রহের পেছনে শুধুমাত্র গলফ খেলার উন্নয়ন বা ক্রীড়াঙ্গনের নিঃস্বার্থ সেবা নয়, বরং নিজস্ব প্রভাব বিস্তার, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ফ্যাসিস্ট দোসরদের পুনরায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সংগঠনে পুন:স্থাপন করার সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা বা বিবেচনা থাকতে পারে বলে অনেকের প্রবল ধারণা ও আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ ও গুঞ্জনের বিষয়ে জি এম কামরুল ইসলামের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়নি।
এর পাশাপাশি তার পূর্বের রাজনৈতিক অতীত ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও নতুন করে ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় উঠে এসেছে। জানা গেছে, ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সে সময় জাতীয় পার্টি তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের একটি অংশ ও সহযোগী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল এবং একই সঙ্গে তার প্রার্থিতা ও নৈতিকতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রবীণ গলফাররা মনে করেন, দেশের গলফ প্রশাসনকে সব ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক, দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, যেকোনো ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন হওয়া উচিত সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদার গলফারদের প্রকৃত স্বার্থ ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের গলফ খেলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিদ্দিকুর রহমানের মতো তারকাদের হাত ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গৌরবময় পরিচিতি অর্জন করেছে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত বিতর্ক বা রাজনৈতিক সংশ্লেষের চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম, পেশাদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। দেশের সংশ্লিষ্ট ক্রীড়ামোদী মহলের প্রত্যাশা, আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই দেশের সম্ভাবনাময় গলফ অঙ্গনের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, স্বাধীন, প্রতিযোগিতামূলক এবং সব অংশীজন ও সাধারণ গলফারদের আস্থার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, সেই দাবি এখন দেশের ক্রীড়া মহলে দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর