সদর উপজেলার ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামে নিজ ঘর থেকে অমিত হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মোসলেম সরদারের ছেলে। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, অমিত হাসান অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এর ফলে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মাদকাসক্ত হয়ে ওঠেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের একটি মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাশ থেকে মেহেদী হাসান নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় মধু ব্যবসায়ী ছিলেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন জানান, স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, অন্য কোনো স্থানে হত্যার পর মরদেহ টেনে এনে ডোবার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আলামত পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা লম্বাডাঙ্গা খাল থেকে আব্দুর রহিম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার শ্বেতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ফরিদ উদ্দীনের ছেলে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান জানান, আব্দুর রহিম দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এ কারণে অধিকাংশ সময় তাকে পরিবারের সদস্যরা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন। তবে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি ভোরে নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হতেন।
শুক্রবার ভোরেও তিনি নামাজ পড়তে বের হন। পরে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে বেউলা লম্বাডাঙ্গা খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করছে পুলিশ। তিনটি ঘটনায় পৃথকভাবে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো জানিয়েছে।