ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

কুমিল্লায় জলাবদ্ধতার মরণফাঁদ: মায়ের হাত ফসকে খোলা ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু


  • আপলোড সময় : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৩৯ পিএম

মোহাম্মদ বাকী অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরীতে ভারী বর্ষণের পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এক চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। শহরের একটি উন্মুক্ত ও ঢাকনাহীন ড্রেনে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছর বয়সী এক শিশু। গতকাল রবিবার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে কুমিল্লা শহরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে রাস্তাঘাট ও ড্রেন পানিতে উপচে একাকার হয়ে যায়। রাতের বেলা জলাবদ্ধ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শিশুটি সড়কের পাশে থাকা ড্রেনের স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ভেতরে পড়ে যায় এবং পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায়। নিহত শিশুটির নাম স্মৃতি, সে লাকসাম উপজেলার বেতিহাটি গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। স্মৃতি নগরীর বদরপুর আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

নিহত শিশুর মা কোহিনূর আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, মামার বিয়েতে অংশ নিতে নানাবাড়ি নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনিতে এসেছিল স্মৃতি। অনুষ্ঠান শেষে রাতে তাকে নিয়ে বদরপুরের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। রাস্তায় কোমর সমান পানি থাকায় কোনো রিকশা না পেয়ে মেয়ের হাত ধরে ফুটপাত দিয়ে সাবধানে হাঁটছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পানির স্রোতে মায়ের হাত ফসকে ড্রেনের খোলা গর্তে পড়ে যায় স্মৃতি। প্রায় ২০ মিনিট পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০-৪০ ফুট দূরে ড্রেনের ভেতর থেকে স্থানীয়রা তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রশাসনের চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কোহিনূর আক্তার বলেন, “শহরের ভেতরের ড্রেনের ওপর স্ল্যাব থাকে না কেন, আমি কর্তৃপক্ষের কাছে এই জবাব চাই। আজকে আমার বুক খালি হয়েছে, কাল যে অন্য কোনো মায়ের সন্তান এভাবে মরবে না, সেই গ্যারান্টি কে দেবে?” এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের এই স্ল্যাবগুলো ভাঙা ও খোলা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বৃষ্টি হলেই এই মরণফাঁদগুলো পানির নিচে লুকিয়ে থাকে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন জানান, ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরেই খোলা অবস্থায় ছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরবর্তীতে সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, পুলিশ পুরো ঘটনার খোঁজ-খবর নিয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর