লক্ষ্মীপুরে ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মুরাদ হোসেন নামের এক মাদরাসা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের নির্দেশে আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মুরাদ হোসেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আটিয়াতলী গ্রামে অবস্থিত ‘কাশিফুল উলুম মাদরাসা’র পরিচালক এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুর রহমানের ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসারই হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন রাতে মাদরাসা পরিচালক মুরাদ হোসেন ওই শিশুকে তাঁর হাত-পা টিপে দেওয়ার কথা বলে নিজের কক্ষে ডাকেন। এরপর সুযোগ বুঝে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুটি বিষয়টি প্রথমে কাউকে জানায়নি।
গত সোমবার শিশুটির মা হোসনেয়ারা বেগম মাদরাসায় সন্তানকে দেখতে যান। তখন ওই শিশু আর মাদরাসায় পড়াশোনা করবে না বলে বাড়িতে চলে যেতে কান্নাকাটি শুরু করে। মায়ের ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে শিক্ষকের অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়টি খুলে বলে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উপস্থিত স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মুরাদ নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আটকে রেখে সদর থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা হোসনেয়ারা বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্যাতনের শিকার শিশুর মায়ের করা মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে।