আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বের পৃথক তিন দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। একযোগে এশিয়ায় জাপান, দক্ষিণ আমেরিকায় ভেনেজুয়েলা এবং উত্তর আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে এমন শক্তিশালী ভূকম্পন ঘটায় এগুলোর মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ বা ভৌগোলিক যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও কৌতুহল দেখা দিয়েছে। তবে প্রখ্যাত ভূকম্পবিদ ও বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের পারস্পরিক সম্পর্ক বা সূত্র নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই বিশেষ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ক্যালটেকের প্রখ্যাত ভূকম্পবিদ ড. লুসি জোন্স এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, আপাতদৃষ্টিতে ঘটনাগুলো একসঙ্গে ঘটেছে বলে মনে হলেও এগুলোর মধ্যে কোনো সংযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রতিটি ভূমিকম্প সম্পূর্ণ পৃথক ফল্ট সিস্টেম বা ভূগর্ভস্থ ফাটল এবং টেকটোনিক প্লেটের সীমানায় সংঘটিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সহজ অর্থ হলো, একটি ভূমিকম্পের কারণে বা প্রভাবে অন্যটি ঘটেনি। হাজার হাজার মাইল দূরে সংঘটিত বড় কোনো ভূমিকম্প সাধারণত বিশ্বের অন্য কোথাও আরেকটি নতুন বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি তৈরি করে না।
ড. লুসি জোন্স আরও উল্লেখ করেন যে, এই ভূমিকম্পগুলোর সময়কাল মিলে যাওয়াটা নিছকই একটি বড় কাকতালীয় ঘটনা। তবে যে স্থানগুলোতে কম্পন হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে প্রতিটি অঞ্চলই অত্যন্ত ভূমিকম্প-প্রবণ এবং সক্রিয় প্লেট সীমানা বরাবর অবস্থিত। এসব এলাকায় গত কয়েক দশক বা শতাব্দী ধরে মাটির নিচে অনবরত প্রচণ্ড চাপ তৈরি হচ্ছিল। ভূগর্ভস্থ সেই পুঞ্জীভূত চাপের আকস্মিক মুক্তির ফলেই এই কম্পনগুলো হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবেই এই অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়া একটি প্রত্যাশিত বা স্বাভাবিক ঘটনা। যদিও আধুনিক বিজ্ঞান ব্যবহার করেও ভূমিকম্প ঠিক কখন আঘাত হানবে, তা নিখুঁতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই দুর্যোগের পরিসংখ্যানগত বিবরণ দিয়ে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে রিখটার স্কেলে ৭.২ মাত্রার প্রথম তীব্র ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার আরেকটি অত্যন্ত বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ইউএসজিএস আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার এই জোড়া কম্পনে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তীব্র আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, একই দিনে জাপানের পূর্ব উপকূলে ৬.৯ মাত্রার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫.৬ মাত্রার দুটি ভিন্ন ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে এই দুই দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আকাশজমিন / আরআর