নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল জেলা পরিষদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট সভায় এ বাজেট ঘোষণা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর আতাউর রহমান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং আগামী অর্থবছরে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জেলা পরিষদের বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাজেট বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি আতাউর রহমান বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সব জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ রকিবুল হাসান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবীর, নড়াইল জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান, নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. তারিকুজ্জামান লিটু, সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এনামুল সরদার, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন এবং অ্যাড. রাজু আহম্মেদ রাজিব।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা জেলার টেকসই উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত ৩৮ কোটি টাকার বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।