সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় শাহিদাবাদ সীমান্তে অবস্থিত হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) আস্তানা মোকামের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোকাম কমিটির সেক্রেটারি আলম ছাব্বিরসহ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ খাদেম ও ভলান্টিয়ারদের অপসারণের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ২টায় পুরান লাউড়, লাউড়েরগড় ও ঢালারপাড় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে শাহ আরেফিন (রাঃ) আস্তানা মোকাম এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মোকামে ভক্তদের দানকৃত গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া, হাঁস-মুরগি, সোনা-রূপা এবং নগদ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় ৭০০ বছর আগে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সাধক হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) ভারতের সিলং জেলার গুমাঘাট থানার নলিকাতা মেঘালয়ের পাদদেশে পাথরের মধ্যে অবস্থিত সাঁতগুহা নামক স্থানে অবস্থান করতেন। ২০০৩ সালের আগে লাউড়েরগড়ে বার্ষিক ওরস মোবারক চলাকালীন সময়ে ভক্তরা ভারতের নলিকাতা মেঘালয়ের মূল আস্তানায় জিয়ারত করতে পারতেন। কিন্তু ২০০৩ সালের পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশিদের সেখানে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর থেকে ভক্তদের দান-সদকা ও নগদ অর্থ লাউড়েরগড়ে নির্মিত আস্তানা মোকামের খাদেম, ভলান্টিয়ার এবং সেক্রেটারি আলম ছাব্বিরের জিম্মায় রাখা হয় বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর বার্ষিক ওরস মোবারকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় হলেও তার সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে এবং মোকামের উন্নয়নে খুব সামান্য অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, গত ২২ বছরের আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে দীর্ঘদিনের আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার, সুষ্ঠু হিসাব প্রদান এবং দুর্নীতিবাজ সেক্রেটারি, খাদেম ও ভলান্টিয়ারদের অপসারণের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে। পাশাপাশি মোকামের যাবতীয় কার্যক্রম প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানানো হয়, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় ভক্তদের আস্থা নষ্ট হবে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান, সাজিদুর রহমান গোলাপ, জসিম উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, রুস্তম আলী, নজির মিয়া, আব্দুল হান্নান, বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট রনি আহমেদ প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শিপন মিয়া, হুমায়ূন কবির, মোবারক হোসেন, সাহাবউদ্দীন, শফিক মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, গাজী মাহমুদ, ইব্রাহিম মিয়া, লায়েছ মিয়া, আলম, লোকমান হোসেন, হাফিজুর রহমান, বাবুল মিয়া, নাইজুল ইসলাম, তারেক মিয়া, আক্কাস আলী, ওমর গনি, কাজী হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আকাশজমিন / আরআর