তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি:
গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক ও দুস্থ মানুষের ভাগ্যবদল এবং টেকসই অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের বিশেষ আর্থিক অনুদানে স্থানীয় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত উপকারভোগী পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বকনা গরু বিতরণ করা হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) সকালে তাড়াশ পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গবাদিপশু বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দরিদ্র মানুষের হাতে আয়ের অন্যতম বড় এই মাধ্যমটি তুলে দেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান। এ সময় তাঁর সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের দক্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ। তাড়াশের স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের এবং পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথিরা।
এই গবাদিপশু বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা এবং তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়াও বিতরণকৃত বকনা গরুগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষে দিকনির্দেশনা দিতে উপস্থিত ছিলেন ভেটেনারি সার্জন ডা. মো. বাদল মিয়া ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. তাইজুল ইসলাম। মাঠ পর্যায়ে এই মানবিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিটি সুচারুভাবে বাস্তবায়নে কাজ করেছে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগী সংগঠন ‘পরিবর্তন’। বিতরণকালে সংগঠনটির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন পরিবর্তনের সহ-সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান এবং পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক রাজুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং প্রান্তিক মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে এই বকনা গরু বিতরণ কেবল একটি সাময়িক সহায়তা নয়, বরং এটি একটি স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টির প্রয়াস। উপকারভোগীরা যাতে এই সম্পদ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি এনজিও কর্মীদেরও নিয়মিত তদারকি বজায় রাখতে হবে। বিতরণ অনুষ্ঠানে বকনা গরু পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তাড়াশের প্রান্তিক পরিবারের উপকারভোগীরা।
তারা জানান, এই সহায়তার ফলে তাদের পরিবারে নতুন আয়ের উৎস তৈরি হলো, যা তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সাথে সংগতি রেখে তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক সংস্থা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। সামগ্রিকভাবে, সম্পূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশে এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে তাড়াশের এই দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে গবাদিপশু বিতরণের মহতি কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
ঢাকা টুডে / আরজে