যুক্তরাষ্ট্র যদি ১৮ জুনের সমঝোতা স্মারকের শর্তসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলে, তবে ইরানও তার দেওয়া সমস্ত অঙ্গীকার পূরণ করবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পূর্ণ পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই এক পক্ষের সততা ও পদক্ষেপের ওপরই অন্য পক্ষের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি নির্ভর করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদোলুর সোমবারের (২৯ জুন) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, সমঝোতাটি একটি দ্বিমুখী বিষয়। ওয়াশিংটন যদি এই স্মারকের প্রতি অনুগত থাকে, তবে ইরানও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে এক চুলও নড়চড় করবে না। একই সাথে তিনি যেকোনো ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ ও আন্তর্জাতিক হুমকির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইরানের অবস্থান সর্বদা যুক্তিবোধ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং প্রয়োজনে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ় ও নির্ভীক পদক্ষেপ নেওয়ার নীতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
গত ১৮ জুন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যখন নানামুখী আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরানি প্রেসিডেন্টের এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সামনে এল। উল্লেখ্য, এই চুক্তির মাধ্যমেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা চরম সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটেছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পুনর্গঠনে একটি বড় কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। এই সমঝোতা স্মারকের মূল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন দেশে ইরানের জব্দ হওয়া বিপুল পরিমাণ আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সততার ওপর। ওয়াশিংটন চুক্তি ভঙ্গ করলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া যে কোনো মুহূর্তে ভেস্তে যেতে পারে।