হিউস্টনের মাঠে প্রথমার্ধে চেনা ছন্দের সেই সেলেসাওদের কোথাও খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহাদের একের পর এক অগোছালো আর ধারহীন আক্রমণ কেবল ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে হতাশারই জন্ম দিচ্ছিল। উল্টো জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে উল্টো গোল হজম করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ নতুন এক খোলস ছেড়ে বেরোল তারা। প্রথমার্ধের চরম ভোগান্তি ভুলে দ্বিতীয়ভাগে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতার এমন কীর্তি ব্রাজিল সর্বশেষ দেখিয়েছিল ২০০২ সালের বিশ্বকাপে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও সেই একই ঐতিহাসিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাল সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল কিংবা গোলপোস্টে শট নেওয়ার দিক থেকে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও, মাঠের আসল ফুটবলে দাপট দেখিয়েছে জাপানই। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে খেলে ম্যাচের ২৯তম মিনিটেই কাইশু সানোর চমৎকার গোলে লিড নেয় এশিয়ান পরাশক্তিরা। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করতে হয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।
তবে দ্বিতীয়ার্থে চেনা ছন্দে ফেরার জোর আভাস দেয় হলুদ শিবির। বিরতি থেকে ফিরেই আক্রমণের গতি এক লাফে বাড়িয়ে দেয় তারা। শুরুর কয়েক মিনিটের ঝড়ে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর, অবশেষে ৫৬তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। জাপানি ডিফেন্সের দেয়াল ভেঙে দুর্দান্ত এক গোলে ব্রাজিলের মুখে হাসি ফোটান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। সমতায় ফেরার পর ম্যাচ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। কিন্তু জাপানের রক্ষণভাগে কিছুতেই ফাটল ধরানো যাচ্ছিল না। ম্যাচ যখন নিশ্চিত অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে ম্যাজিক দেখান বদলি নামা গাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। তার নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল, সেই সাথে নিশ্চিত হয় শেষ ১৬-র টিকিট।