সকালে ছিল স্কুলের পরীক্ষা। তাই অন্যদিনের তুলনায় একটু আগেই ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বাবা। পরিকল্পনা ছিল ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে নিজেও কর্মস্থলে যাবেন। কিন্তু সেই যাত্রাপথই হয়ে উঠল জীবনের শেষ পথ। কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শাহাপুর বাজারে দ্রুতগতির একটি বাসের চাপায় প্রাণ হারাল সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র কুশল সরদার (১৩)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা, শিক্ষক কানাই লাল সরদার।
বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। কুশল তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে নলতা গ্রামের বাসিন্দা এবং রথখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কানাই লাল সরদারের বড় ছেলে।
সকালে মোটরসাইকেলে করে বাবা ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। শাহাপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাস তাদের চাপা দেয়। এতে কুশল বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত হন তার বাবা কানাই লাল সরদার।
তালা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাসটিকেও জব্দ করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর সবুর জানান, পাইকগাছা থেকে খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস (রেজি. নং খুলনা জ-০৫-০০৪৯) বৃষ্টির মধ্যে শাহপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে চুকনগর থেকে তালাগামী একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহত কানাই লাল সরদারকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়াউর রহমান জানান, কানাই লাল সরদার এলাকায় একজন সজ্জন ও সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী মৌমিতা সরদারও একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। দুই সন্তানের মধ্যে কুশল ছিল বড়। মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের এই শিক্ষার্থীকে ঘিরে বাবা-মায়ের ছিল অনেক স্বপ্ন।
কুশলের অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর চোখে ছিল অশ্রু। যে শিশু সকালে পরীক্ষা দিতে বের হয়েছিল, সে আর কোনো দিন স্কুলের বেঞ্চে ফিরবে না—এই নির্মম বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। আহত অবস্থায় কানাই লাল সরদার বারবার ছেলের নাম ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন|