সৌদি আরবে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী কর্মী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরণের স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এবং যাবতীয় আইনি জটিলতা কাটানোর পূর্বঘোষিত কঠোর সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত ৩০ জুনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ ও নজিরবিহীন ঘোষণাটি আসে।
এর আগে গত ২৯ জুন সৌদির শ্রম খাতের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'কিওয়া' (Qiwa) একটি জরুরি ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ৩০ জুনের মধ্যে সকল নিয়োগকর্তাকে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন কিংবা কাফালা (অন্য প্রতিষ্ঠানে স্পনসরশিপ স্থানান্তর) সম্পন্ন করতে হবে। ১ জুলাই থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ৩ মাসের বেশি সময় ধরে উত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের নাম প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল রেকর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার কথা জানানো হয়েছিল। তবে কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট না থাকলেও ইকামার (আবাসন অনুমতি) মেয়াদ যদি অন্তত ১৮০ দিন থাকে, তবে তাকে বাদ দেওয়া হবে না। কিন্তু মেয়াদ ১৮০ দিনের কম হলে ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট দুটিই একসঙ্গে নবায়ন করার নিয়ম করা হয়। পাশাপাশি, কর্মীকে বৈধ পারমিট ছাড়া কাজ করানোর মেয়াদের সব বকেয়া আর্থিক দায় ও ফি সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তাকেই বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই কঠোর নির্দেশনার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই শ্রমবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিয়ম প্রতিপালনের হার বাড়াতে নতুন করে সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।
কারা পাবেন এই বর্ধিত সময়সীমার বিশেষ সুবিধা?
সৌদি মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মূলত দুটি বিশেষ ক্যাটাগরির প্রবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন:
১. যেসব প্রবাসী কর্মীর কাজের অনুমতিপত্রের (Work Permit) মেয়াদ ইতিমধ্যে ১২ মাস বা তারও বেশি সময় আগে শেষ হয়ে গেছে, তারা কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই তা নবায়নের সুযোগ পাবেন।
২. যেসব কর্মী কোনো সৌদি প্রতিষ্ঠানে নতুন যোগদানের পর ৬ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাদের কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়নি, তারা এই নিয়মের আওতাভুক্ত হবেন।
যে কারণে সময়সীমা বাড়াল সৌদি সরকার
মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিগত সময়ে সৌদির নতুন প্রবিধান ও শ্রম আইন মেনে নিজেদের পরিস্থিতি সংশোধন করার ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মী এবং সৌদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিপুল সাড়া ও ইতিবাচক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এর ফলে সৌদির অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে নিয়ম প্রতিপালনের (কমপ্লায়েন্স) হার আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। মূলত ব্যবসায়ী এবং কর্মীদের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য একটি অতিরিক্ত ও চূড়ান্ত সুযোগ দিতেই এই সময়সীমা চলতি বছরের শেষ দিন (৩১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বাড়ানো হলো। এর ফলে নিয়োগকর্তারা কোনো ধরণের কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা অতিরিক্ত জরিমানা গোনা ছাড়াই বকেয়া সরকারি ফি পরিশোধ করে কর্মীদের সকল কাগজপত্র বৈধ করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।
নিয়োগকর্তা ও প্রবাসী কর্মীদের জন্য জরুরি করণীয়
সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রবাসীদের সুবিধার্থে এই বিশেষ সময়সীমা বাড়ানো হলেও এটিকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। বর্ধিত নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান বা কর্মী নিজেদের পরিস্থিতি সংশোধন করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো ধরণের অনুকম্পা ছাড়াই কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই যেকোনো আকস্মিক আইনি জটিলতা, বকেয়া বা অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা এড়াতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর চূড়ান্ত সময়সীমার আগেই বকেয়া ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করা, নতুন পারমিট ইস্যু করা কিংবা প্রয়োজনে অন্য প্রতিষ্ঠানে সেবা স্থানান্তরের (কাফালা) যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর