দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৬৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে তীব্র কম্পনে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন। শুক্রবার (৩ জুলাই) দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, স্মরণকালের ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে অক্ষত বা জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ হাজার ১১৭টি পরিবারকে জরুরি মানবিক সহায়তা দিচ্ছে প্রশাসন। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের প্রচণ্ড তীব্রতায় অন্তত ৮৮৫টি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯টি আবাসন ভবন সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, এই চরম সংকটের মুহূর্তে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ উদ্ধারকর্মী কারাকাসে এসে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রমকে বেগবান করতে কারাকাস প্রশাসন নিজস্ব প্রায় ত্রিশ হাজার জনবল মাঠে নামিয়েছে। তারা দিনরাত ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর ৭.৫ ও ৭.২ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম শক্তিশালী কম্পনটি আঘাত হানে দেশটির ইয়ারাকুই রাজ্যের ইয়ুমারে শহর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এর ঠিক পরপরই ৭.২ মাত্রার দ্বিতীয় ধাক্কাটি লাগে সান ফিলিপ অঞ্চলের ২৩.৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, মূল ভূকম্পনের পর থেকে ওই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৯০টি আফটারশক বা মৃদু অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।