ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

দিনে ২৬০০ নতুন কোটিপতি, তবু আমিরাত-রাশিয়ায় চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:১৪ পিএম

বিশ্বজুড়ে বিত্তশালীদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও তার ঠিক উল্টো পিঠে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক দূরত্ব আরও প্রকট হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের খ্যাতনামা ব্যাংক ইউবিএস-এর প্রকাশিত সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’ বা বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে ১৭তম বারের মতো প্রকাশিত এই বার্ষিক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্পদের বিকাশ এবং তার অসম বণ্টনের একটি নিখুঁত ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ইউবিএস-এর গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্বজুড়ে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে ব্যক্তিগত মোট সম্পদ আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা বিগত দুই বছরের প্রবৃদ্ধির হারের দ্বিগুণেরও বেশি। ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রধান ইকবাল খান এই অগ্রগতির নেপথ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বদল, প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগগুলোকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে মার্কিন ডলারকে মানদণ্ড ধরে মিলিয়নেয়ার বা ধনকুবেরদের (যাদের ন্যূনতম সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ডলার) একটি হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, গত একটি বছরেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নতুন করে কোটিপতির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। সেই হিসাবে সারা বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নতুন ধনকুবের হয়েছেন, যার প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

তবে আশঙ্কার কথা হলো, অতি ধনীদের এই জয়জয়কারের মাঝেও অধিকাংশ দেশে মধ্যবিত্ত বা সাধারণ মানুষের মধ্যক সম্পদ বা ‘মিডিয়ান ওয়েলথ’-এর পরিমাণ বেশ কমেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই মধ্যক সম্পদই মূলত কোনো দেশের সাধারণ জনগণের আসল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ‘সবচেয়ে নির্ভুল চিত্র’। এই তালিকায় লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের পরেই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে জনপ্রতি মধ্যক সম্পদ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ সল এসলেক জানান, মধ্যবিত্ত ও ধনীদের ব্যবধান বাড়লেও অস্ট্রেলিয়ার সম্পদ বণ্টন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সুষম।

ইউবিএস তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছে যে, এই তালিকায় নাম ওঠা মানেই এই নয় যে সবার ব্যাংকে লাখ লাখ ক্যাশ টাকা রয়েছে। আসলে গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে আবাসিক সম্পত্তির বা নিজেদের আবাসন বা বাড়ির মূল্য আকাশছোঁয়া হওয়ায় অনেকেই হিসাবের অঙ্কে কোটিপতি বনে গেছেন, যদিও তাদের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় বিন্দুমাত্র বাড়েনি।

অর্থনৈতিক বৈষম্য পরিমাপের আন্তর্জাতিক সূচক ‘জিনি কোএফিশিয়েন্ট’ বা জিনিসূচকেও এই অমিল স্পষ্ট ধরা পড়েছে। এই সূচকে শূন্যের অর্থ পূর্ণ সমতা এবং ১-এর অর্থ চরম বৈষম্য। ইউবিএস-এর ৫৬টি দেশের তালিকায় সবচেয়ে কম সম্পদ বৈষম্যের দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান পেয়েছে স্লোভাকিয়া। এর ঠিক বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক বৈষম্যের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবেদনটি থেকে স্পষ্ট যে, একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হলেও সেখানে চরম বৈষম্য বিরাজ করতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর