খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে রক্তক্ষয়ী গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। সোমবার দুপুরে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের এই দুই আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ।
ওসি বলেন, ‘দুপুরে চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ এদিকে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেএসএস ও ইউপিডিএফ নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে মাঝেমধ্যেই এমন সশস্ত্র সংঘাত ও হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এবং পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো পানছড়ি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
আকাশজমিন / আরআর