মোহাম্মদ বাকি অনিক, কুমিল্লা সদর প্রতিনিধি
কুমিল্লা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, কৃত্রিম যানজট তৈরি এবং সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জনভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নগরীর ৮টি নামী-দামি দোকান, রেস্তোরাঁ ও বেকারির ট্রেড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক)।
সিটি কর্পোরেশনের অফিশিয়াল আদেশ অনুযায়ী স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— আরব সুইটস এন্ড বেকারী, আল বারাকা হোটেল, হাজী এন্ড সন্স, সাবা ব্রয়লার হাউস, আবেদীন স্টোর, জেলিকা বেকারী, কাজী ফজলুল হক স্টোর এবং ট্রাইবেকার। জনস্বার্থে নেওয়া সিটি কর্পোরেশনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে নগরীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চিহ্নিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দোকানের সীমানা পেরিয়ে সামনের ফুটপাত এবং প্রধান সড়কের একাংশ অবৈধভাবে দখল করে তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল। এর ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। সড়ক ও ফুটপাত অবমুক্ত করার জন্য পূর্বে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত সতর্কতা দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তা সম্পূর্ণ অমান্য করে আসছিল। এই পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে এবং জনস্বার্থ রক্ষার্থে সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী তাদের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এটি কোনো সাময়িক বা নামমাত্র পদক্ষেপ নয়। কুমিল্লা মহানগরীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত এবং বাসযোগ্য আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের এই বিশেষ উচ্ছেদ ও আইনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও সমানতালে অব্যাহত থাকবে। সড়ক কিংবা ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের চলাচলের পথ যে বা যারাই রুদ্ধ করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেই কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরীর সাধারণ নাগরিক ও সচেতন সমাজ।