নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে গভীর রাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পাথরবোঝাই ট্রাক সড়কের পাশে থাকা বসতঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা দুই বোনের মধ্যে এক স্কুলছাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এবং অপর বোন গুরুতর আহত হয়েছে। রবিবার (৬ জুলাই ২০২৬) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নলদী গ্রামে এই শোচনীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত বড় বোন শামীমা আক্তার সেতু (১৪) স্থানীয় বি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। অপরদিকে, একই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী এবং নিহত সেতুর ছোট বোন মিতু (১২) এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার নলদী গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজুর মোল্যার দুই কন্যা সন্তান সেতু ও মিতু প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতের খাবার শেষে নিজেদের শোবার ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিল। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি পাথরবোঝাই ভারী ট্রাক ভুলবশত পথ হারিয়ে নলদী এলাকার খালপাড়ের অত্যন্ত সরু একটি গ্রামীণ রাস্তায় ঢুকে পড়ে। ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গতি সামলাতে না পেরে সরাসরি সড়কের পাশে থাকা হাফিজুল মোল্লার বসতবাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে।
এতে ঘরের দেয়াল ভেঙে ট্রাকের নিচে থাকা শত শত ভারী পাথর ঘুমন্ত সেতু ও মিতুর শরীরের ওপর এসে পড়ে। পাথরের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই বড় বোন সেতুর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ছোট বোন মিতুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আকস্মিক এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ পুরো গ্রাম জুড়ে এক গভীর শোকাবহ ও স্তব্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে দুর্ঘটনার পর পরই সুযোগ বুঝে ট্রাকের চালক এবং তার সহকারী (হেলপার) ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পলাতক চালক ও সহযোগীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং এই বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান আছে।