টানা দুই দিন ধরে চলা অবিরাম ও ভারী বর্ষণের জেরে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানের সমস্ত পর্যটন স্পট আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই জরুরি ও কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস সোমবার রাতে এই আদেশ জারি করে উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা জুড়ে অব্যাহতভাবে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আগামী ১০ জুলাই তথা শুক্রবার পর্যন্ত জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলার নামকরা সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, রোমাঞ্চকর পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম বনাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের যাতায়াত ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে প্রশাসনের এই নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও রয়েছে।
এদিকে পাহাড়ের এই প্রবল বর্ষণের ফলে থানচি ও আলীকদম উপজেলার পাহাড়ি ঢলে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়ে গেছে। থানচির তিন্দু এলাকায় সোমবার পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের তোড়ে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে, তবে সৌভাগ্যবশত এতে কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আলীকদমে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে এবং অনেক ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বান্দরবানের এই বন্যা পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বেশ বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক ভারী বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর মৌসুমি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই নিম্নচাপের তীব্র প্রভাবে গত রোববার তথা ৫ জুলাই থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এই অতিবৃষ্টির কারণে বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি জেলাগুলোতে মারাত্মক ভূমিধস বা পাহাড় ধসের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।